স্মরণ -মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদ

প্রকাশকাল- ১১:১৭,অক্টোবর ১৯, ২০১৭,বিবিধ বিভাগে

প্রিয়াঙ্কা সরকার

forrukh

” কাঁচড়া পাড়ায় রাত্রি। ডিপোতলে এঞ্জিন বিকল—সুদীর্ঘ বিশ্রান্ত শ্বাস ফেলে জাগে ফাটা বয়লার,—অবরুদ্ধ গতিবেগ। তারপর আসে মিস্ত্রিদল গলানো ইস্পাত আনে, দৃঢ় অস্ত্র হানে বার বার। জ্বলন্ত অগ্নির তাপে এই সব যন্ত্র জানোয়ার দিন রাত্রি ঘোরে ফেরে সুদুর্গম দেশে, সমতলে সমান্তর, রেলে রেলে, সেতুপথ পার হয়ে আর অভীষ্ট লক্ষ্যের পানে দার্জিলিংয়ে আসামে জঙ্গলে।”

যান্ত্রিকের স্বাদে প্রাকৃতীয় ভাবনার সম্মিলনে আজকের মুসলিম রেনেসাঁর কবি, সম্পাদক ও বেতার শিল্পী ফররুখ আহমেদ। (জন্ম : জুন ১০, ১৯১৮ – মৃত্যু : অক্টোবর ১৯, ১৯৭৪)

রেনেসাঁ মানে সেই আলোক উওরণের প্রতিকৃতি। তিনি অধ:পতিত মুসলমান সমাজের পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণার ব্যক্তিপুরুষ। বিংশ শতাব্দীর মুসলিম ভাবধারার মানুষ হলেও তাঁর রচনাকৌশল, প্রকরণ বিশিষ্টটায় সমুজ্জ্বল। আধুনিক কবিতার সকল লক্ষণ নির্দিষ্ট। রোমান্টিকতা থেকে আধুনিক উওরণের ধারাবাহিকতা তাঁর লেখায় স্পষ্ট। পারিবারিক পরিসর বলছে পিতা সৈয়দ হাতেম আলী একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেন। শৈশবের সময় অতিক্রম করে, তিনি আপন খালার মেয়ে লিলির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহ উপলক্ষে লেখা ” উপহার ” কবিতা, “সওগাত’ পত্রিকায় ছাপা হয়। ♦
সনেট লিখলেও তিনি সাহিত্যের বিশিষ্টতায় তিনি কবি। আরবি ও ফারসি শব্দের প্রাচুর্য তাঁর লেখায় বারে বারে চোখে পড়ে।
বৃষ্টি এল কাশ বনে
জাগল সাড়া ঘাস বনে,
বকের সারি কোথা রে
লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে৷

নদীতে নাই খেয়া যে,
ডাকল দূরে দেয়া যে,
কোন সে বনের আড়ালে
ফুটল আবার কেয়া যে৷

গাঁয়ের নামটি হাটখোলা,
বিষ্টি বাদল দেয় দোলা,
রাখাল ছেলে মেঘ দেশে,
যায় দাঁড়িয়ে পথ-ভোলা৷

আধুনিক বাংলা কবিতায় তাঁর বিস্তৃতি অপরিসীম। তবু সমালোচনা তো বারে বারে এসেছে।শনিবারের চিঠিতে তাঁর লেখা ছাপা হয়।  আবদুল মান্নান সৈয়দ প্রথমে তারে ‘ইসলামসচেতন’ বললেও পরে ‘স্বতন্ত্রসংস্কৃতিসচেতন’ বলছেন।  বিতর্ক প্রচুর, কারণ নবজাগরণের উন্মোচন আর আলোর উওরণের শরিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই বিশিষ্টতা। বারে বারে তাঁর কৃতিত্ব বলছি, তাই লেখনী তুলে ধরব না তা তো হয় না। তাই ক্ষুদ্র পরিসরে তার লেখা কাব্যগ্রন্থগুলি তুলে ধরলাম –

সাত সাগরের মাঝি (ডিসেম্বর, ১৯৪৪)সিরাজাম মুনীরা (সেপ্টেম্বর, ১৯৫২)নৌফেল ও হাতেম (জুন, ১৯৬১)-কাব্যনাট্যমুহূর্তের কবিতা (সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩)ধোলাই কাব্য (জানুয়ারি, ১৯৬৩)হাতেম তায়ী (মে, ১৯৬৬)-কাহিনীকাব্যনতুন লেখা (১৯৬৯)কাফেলা (অগাস্ট, ১৯৮০)হাবিদা মরুর কাহিনী (সেপ্টেম্বর, ১৯৮১)সিন্দাবাদ (অক্টোবর, ১৯৮৩)দিলরুবা (ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪) শিশুতোষ গ্রন্থসম্পাদনা

পাখির বাসা (১৯৬৫)হরফের ছড়া (১৯৭০)চাঁদের আসর (১৯৭০)ছড়ার আসর (১৯৭০)ফুলের জলসা (ডিসেম্বর, ১৯৮৫)

প্রাইড অব পারফরমেন্স,একুশ পদক ও স্বাধীনতা পদকের অনন্য ব্যক্তিত্ব আজকের দিনে ১৯৭৪ সালে পরলোকগমন করেন।