হজযাত্রায় ভোগান্তি সীমাহীন

প্রকাশকাল- ২০:১৪,আগস্ট ১১, ২০১৭,জাতীয় বিভাগে

হজ্বযাত্রাহজ নিয়ে ভয়াবহ জটিলতা অব্যাহত রয়েছে। হজযাত্রী সঙ্কটে গতকালও দু’টি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ নিয়ে মোট হজ ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭। এর মধ্যে ২৩টিই বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। এভাবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হজযাত্রীরা।

এ দিকে ভিসা থাকার পরও সৌদি আরবে হাজী না পাঠানোয় গতকাল ৩৭৭টি হজ এজেন্সিকে আশকোনা হজ অফিসে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। হজ ফ্লাইট বাতিলে এজেন্সিগুলোকে দায়ী করে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান দায়ী এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হজ ফ্লাইট বাতিল : ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী সঙ্কট হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ২৫ ও ১০টা ৫৫ মিনিটের হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিসা, ই-টোকেন ও পাসপোর্ট জটিলতায় হজযাত্রী সঙ্কট হয়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার সকালের দু’টি হজফাইট বাতিল করা হয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২৭টি হজফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ।
ভিসা থাকলেও ৯০ ভাগ হজযাত্রী পাঠায়নি ৩৭৭ এজেন্সি : ভিসা হওয়ার পরও নির্ধারিত কোটার শতকরা ৯০ ভাগ হজযাত্রী সৌদি আরব পাঠায়নি ৩৭৭টি হজ এজেন্সি। জানা গেছে, চলতি বছর মোট ৩৭৭টি এজেন্সির সর্বোচ্চ ২৬৪ জন থেকে সর্বনিম্ন ছয়জন পর্যন্ত হজযাত্রীর ভিসা থাকার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে যাত্রী না পাঠানোর ফলে হজ ফ্লাইটের সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক হজযাত্রীর অভাবে বাতিল হচ্ছে একের পর এক ফ্লাইট। এ জন্য গতকাল অভিযুক্ত হজ এজেন্সিগুলোকে আশকোনা হজ অফিসে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেছে হজ অফিস।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিসের পরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ইমিগ্রেশন থেকে প্রাপ্ত তালিকায় পৌনে চার শ’র বেশি এজেন্সি ভিসা থাকা সত্ত্বেও ৯০ ভাগ হজযাত্রীকে সৌদি আরব পাঠায়নি। এ কারণেই হজ ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন হচ্ছে। এসব এজেন্সির যাত্রীদের কোন এয়ারলাইন্স কত তারিখের জন্য বুকিং দিয়েছে এর প্রমাণপত্রসহ তাদের আসতে বলা হয়েছিল। তাদের বেশির ভাগই প্রমাণপত্র নিয়ে হাজির হয়।
গত ২৪ জুলাই হজফাইট শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া ২৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ২৩টি বিমান বাংলাদেশের এবং চারটি সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের। এসব ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ১৫ দিনে বিমানের ক্ষতি হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোসাদ্দিক আহম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এ ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট বুধবার পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৩৩৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৮ হাজার ৪৫৩ জনসহ মোট ৫১ হাজার ৭৯১ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত ৮৫ হাজার ৬৮৬ জনের ভিসা হয়েছে। এ ছাড়া ১১ হাজার ১১৮ জনের ভিসা প্রক্রিয়াধীন। বিপুল এ হজযাত্রীর ভিসা থাকার পরও যাত্রীর অভাবে বাতিল করতে হচ্ছে ফ্লাইট।
ধর্মমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি : ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেছেন, যেসব এজেন্সির কারণে হজফাইট বাতিল হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত কর্মশালায় মন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো ত্রুটি নেই। হজ এজেন্সিগুলোর গাফিলতির কারণেই ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।
বিমানমন্ত্রী : বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, হজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পেছনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কোনো দোষ নেই। বিমান তো বসে আছে এখন যদি এজেন্সিগুলো যাত্রী না দেয় বিমানের কী করার আছে। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ট্যুারিজম ফেয়ারের উদ্ভোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, বিমান চেষ্টা করছে হজ যাত্রীদের নেয়ার জন্য। বিকল্প কোনো উপায়ে যাত্রীদের নেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব।