হলিউডে যৌন কেলেঙ্কারি মুখ খুললেন নায়িকারা

প্রকাশকাল- ১০:৩৭,অক্টোবর ১২, ২০১৭,বিনোদন বিভাগে

image-19242-1507749821স্বামী ও হলিউড প্রযোজক হারভে ওয়েইনস্টেইনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিনেত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগের কাছে তাকে ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্ত্রী, ফ্যাশন ডিজাইনার জর্জিনা চ্যাপম্যান (৪১)। হারভে ওয়েইনস্টেইনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন হলিউডের নামকরা অভিনেত্রী অ্যানজেলিনা জোলি, রোজ ম্যাকগোয়েন, অ্যাশলে জুড সহ অনেক শীর্ষ অভিনেত্রী। এ ঘটনায়  অনুতপ্ত জর্জিনা চ্যাপম্যান। তিনি বলেছেন, যারা হারভে ওয়েইনস্টেইনের এমন আচরণের শিকার হয়েছেন সেইসব নারীদের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।

এ অভিযোগ ওঠার পর হারভে ওয়েইনস্টেইন তা অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তাকে শতভাগ সমর্থন করছেন তার স্ত্রী। কিন্তু জর্জিনা সরাসরি তাকে ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিজ মুখে। অন্যদিকে হারভে ওয়েইনস্টেইন পাড়ি জমিয়েছেন ইউরোপে। অনেকে অভিযোগ করছেন, তার এই সফরও যৌন সুবিধা পাওয়ার জন্য। হারভে ওয়েইনস্টেইনের সঙ্গে ১০ বছরের বিবাহিত সম্পর্ক জর্জিনার। তাদের রয়েছে দুটি সন্তান। তাদের বয়স ৭ ও ৪ বছর। বড়টির নাম ইন্ডিয়া পার্ল। ছোটটি ড্যাশিয়েল ম্যাক্স রবার্ট। এ কাহিনী পশ্চিমা মিডিয়া গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। এতে বলা হয়েছে, যৌন নির্যাতিত অভিনেত্রীদের একজন হারভে ওয়েইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর জর্জিনা তার স্বামীকে ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার স্বামী যেটা করেছে তাতে তিনি ভীষণভাবে বেদনাহত। এমন অপকর্মের কোনো ক্ষমা হতে পারে না। তাই আমি আমার স্বামীকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এক্ষেত্রে আমার প্রথম অগ্রাধিকার হবে সন্তানদের যত্ন নেয়া। এ সময়ে আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করতে অনুরোধ করছি।

ওদিকে এমন কাহিনী নিয়ে যখন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তখন ব্যক্তিগত জেটে চেপে ইউরোপে পাড়ি দিয়েছেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নামকরা ওয়েবসাইট রিপোর্ট করেছে, সেখানে তিনি সেক্স আসক্তির থেরাপি নেবেন। সেখানে তিনি সব আইনগত বিষয়ে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হারভে ওয়েইনস্টেইন সব সময়ই হটহেডেড বা মাথা গরম মানুষ। তবে এই সপ্তাহে যৌন কেলেঙ্কারির কাহিনী ফাঁস হওয়ায় তিনি বিস্ময়করভাবে শান্ত হয়ে গেছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী জর্জিনা বৃটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি নারীদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন মারচিসা নামের ফ্যাশন হাউজ। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা তিনি। এতে তার স্বামী হারভে ওয়েইনস্টেইনের যথেষ্ট অবদান আছে। এখন তিনি স্বামীকে ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও তাতে তার জন্য অনেকটা সমস্যা সৃষ্টি করবে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাগাজিনকে একটি সূত্র বলেছেন, জর্জিনার মধ্যে তার ওই ফ্যাশন হাউজ নিয়ে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। ওই ফ্যাশন হাউজের বেশির ভাগ কাস্টমার হলেন তার স্বামীর ছবির অভিনেত্রীরা।

এখন হারভে ওয়েইনস্টেইনকে ছেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে ওই বাণিজ্যে। দ্য হলিউডের একজন সাংবাদিককে একজন তো এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন আর কোনো অভিনেত্রী ওই ফ্যাশন হাউজে যাবেন না বা তারা সেখানকার পোশাক পরবেন না। ওদিকে হারভে ওয়েইনস্টেইনের বিরুদ্ধে যেসব হলিউড অভিনেত্রী অভিযোগ এনেছেন তার মধ্যে অন্যতম গাইনেথ পালট্রো। তিনি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তাকে স্পর্শ করেছেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। ১৯৯৬ সালে শুটিং হয় ‘এমা’ ছবি। তার শুরুতেই তিনি গাইনেথকে বেডরুমে গিয়ে যৌথভাবে ম্যাসাজ করান। এ সময় গাইনেথের বয়ফ্রেন্ড ছিলেন অভিনেতা ব্রাড পিট। গাইনেথ পরে বিষয়টি তাকে জানান। এরপর হারভে ওয়েইনস্টেইনের মুখোমুখি হন ব্রাড পিট। অন্যদিকে অ্যানজেলিনা জোলি বলেছেন, ১৯৯৮ সালে তার কাছে যৌন সুবিধা চেয়েছিলেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। তারপর তিনি আর কখনো হারভে ওয়েইনস্টেইনের সঙ্গে কাজ করেন নি। জোলি আরো বলেছেন, তিনি অন্য নারীদেরকেও হারভে ওয়েইনস্টেইন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। অভিনেত্রী লুইসেতি গেস বলেন, ২০০৮ সালে হারভে ওয়েইনস্টেইনের সঙ্গে এক রাতের শেষের দিকে মিটিং হয় তার। এ সময় বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। তাকে বলেন, যদি তিনি তার নিজস্ব যৌন উদ্দীপনা দেখেন তাহলে তাকে তার স্ক্রিপ্টে সবুজ সংকেত দেবেন। এ কথা শুনে তিনি ওই মিটিং থেকে বেরিয়ে আসেন।

জুডিথ গোডরেচ। ফরাসি এই অভিনেত্রী বলেছেন, তাকে ম্যাসাজ করার চেষ্টা করেছিলেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। তিনি তার কাপড় খোলার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে তার স্যুটে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। আরেক অভিনেত্রী ডন ডানিং। তিনি বলেছেন, ২০০৩ সালে ভবিষ্যৎ ছবির প্রকল্প নিয়ে হারভে ওয়েইনস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাতে তাকে ডাকা হয়েছিল। তার কাছে পৌঁছালে ডন ডানিংকে নিজের পরবর্তী তিনটি ছবির স্ক্রিপ্ট তুলে দেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। এসব ছবিতে তাকে নায়িকা হিসেবে নেয়ার কথা ছিল তার। তবে প্রস্তাবে তিনি বলেছিলেন তার জন্য তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। এ কথা শুনে তার হোটেল থেকে পালান ডন ডার্নি। হারভে ওয়েইনস্টেইনের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন টমি অ্যান রবার্ট। তিনি ১৯৮৪ সালে কলেজ জুনিয়রদের টেবিলে খাবার পরিবেশন করার সময় সাক্ষাৎ পান হারভে ওয়েইনস্টেইনের। এ সময় তাকে হারভে ওয়েইনস্টেইনের বাড়িতে দেখা করতে বলেন তিনি। তার বাড়িতে পৌঁছলে তিনি দেখতে পান বাথরুমে নগ্ন হারভে ওয়েইনস্টেইন। তাকেও একই রূপ ধারণ করতে বলেন। বিনিময়ে তাকে ছবিতে নেয়ার জন্য অডিশন দেয়ার প্রস্তাব দেন। তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন টনি এবং সেখান থেকে চলে যান।

ইতালিয়ান অভিনেত্রী এশিয়া আরজেনতো। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার বয়স যখন ২১ বছর তখন জোর করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। তিনি বলেন, আমাকে ভীষণ ভয় দেখিয়েছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন বিরাট মাপের মানুষ। আমি তাকে থামাতে পারি নি। এটা ছিল আমার কাছে এক দুঃস্বপ্ন। এরপরে তার সঙ্গে তাকে পরের বছরগুলোতে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে হয়। ২০০০ সালের চবি ‘স্কারলেট ডিভা’র সময়ে তার প্রতি এমন আক্রমণ ডকুমেন্ট হিসেবে ধারণ করেছেন তিনি। অভিনেত্রী ক্যাথেরিন কেনদাল বলেছেন, ১৯৯৩ সালে একটি ছবির স্ক্রিনিংয়ের পর তাকে বলা হয় হারভে ওয়েইনস্টেইনকে তার এপার্টমেন্টে পৌঁছে দিতে। সেখানে তাকে পৌঁছে দিতেই তিনি বাথরোমে প্রবেশ করেন এবং ক্যাথেরিনকে বলেন নিজের দেহকে দলিত মথিত করতে। এতে অসম্মতি জানান ক্যাথেরিন। এর ফলে হারভে ওয়েইনস্টেইন নিজে নগ্ন হয়ে যান এবং তাকে জড়িয়ে ধরেন।

লুসিয়া ইভানস: এই অভিনেত্রী এর আগে লুসিয়া স্টোলার নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেছেন তার সঙ্গে ‘ওরাল সেক্স’ করেন হারভে ওয়েইনস্টেইন ২০০৪ সালে। নিউ ইয়র্কারকে তিনি বলেছেন, ওই দুর্ঘটনার পর তিনি অনেক বছর মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেছেন। ওই ঘটনার পর তাকে শেষ রাতে কল করেন হারভে ওয়েইনস্টেইন।

মিরা সোরভিনো: ‘মাইটি অ্যাপ্রোডিট’ ছবির এই অভিনেত্রী নিউ ইয়র্কারকে বলেছেন, ১৯৯৫ সালে টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে হোটেল রুমে তাকে ম্যাসাজ করার চেষ্টা করেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। এরপর মধ্যরাতে তিনি তার বাসায় গিয়েছিলেন। এ সময় নিজেকে রক্ষা করতে নিজের বয়ফ্রেন্ডকে কল করেন মিরা। তিনি বলেন, হারভে ওয়েইনস্টেইনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তার ক্যারিয়ারে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
রোসানা আরকুয়েটি: এই অভিনেত্রী বলেন, ১৯৯০ এর দশকে তার কাছ থেকে যৌন সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। একটি হোটেলের মিটিংয়ে রোসানার হাত নিজের স্পর্শকাতর স্থানে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন হারভে।

রোজ ম্যাকগোয়েন: ১৯৯৬ সালে হারভে ওয়েইনস্টেইন প্রযোজিত ছবি ‘স্ক্রিম’-এ অভিনয় করেন তিনি। ১৯৯৭ সালে সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে হয়রানি করার পরে মামলা করেছিলেন তিনি হারভের বিরুদ্ধে।

অ্যাশলে জুড: এই অভিনেত্রীর অন্যতম ছবি ১৯৯৭ সালের থ্রিলার ‘কিস দ্য গার্লস’। ওই ছবির শুটিংয়ের সময় বার বার অ্যাশলেকে তার গোসল দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। এ সপ্তাহে এ নিয়ে যেসব নারী হারভে ওয়েইনস্টেইনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তার মধ্যে অ্যাশলে অন্যতম। তিনি বলেন, হারভে সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে মেয়েরা কথা বলাবলি করছে। এখন সময় এসেছে তা সবাইকে জানিয়ে দেয়ার।

এমা ডি কানস: তিনি ফরাসি অভিনেত্রী। তিনি বলেছেন, ২০১০ সালে হারভে ওয়েইনস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তার। এর পর পরই তাকে হারভে বলেন, একটি বইয়ের কাহিনীনির্ভর একটি স্ক্রিপ্ট আছে তার হাতে। তাতে একজন শক্তিধর নারী চরিত্র আছে। ওই স্ক্রিপ্টটি এমা’কে দেখাতে চান হারভে। এ জন্য তাকে তার হোটেল রুমে যেতে বলেন। এমা সেখানে যেতেই তিনি গোসল করা শুরু করেন। একপর্যারে তিনি নগ্ন অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। এ সময় তার শারীরিক ও মানসিক উত্তেজনা ছিল। তিনি এমা’কে তার সঙ্গে শয্যাসঙ্গিনী হতে আহ্বান জানান। বলেন, তার সঙ্গে এ কাজ এর আগে আরো অনেকে করেছেন। এমা বলেন, তার এমন কথা শুনে আমি থতমত খেয়ে গিয়েছিলাম। তবে আমি যে ভয় পেয়ে গিয়েছি তা তাকে বুঝতে দিই নি।

লরেন ও’কনর: ওয়েইনস্টেইন কোম্পানির সাবেক একজন কর্মী তিনি। তিনি বলেছেন, ২০১৫ সালের শেষের দিকে এ কোম্পানিতে তার কারণে ‘বিষাক্ত’ পরিবেশে নারী নির্বাহীদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। হারভের ওই সময়কার একজন সহকর্মী বলেছেন, তিনি যখন নগ্ন হয়ে থাকতেন তখন তার শরীর ম্যাসাজ করাতেন তাকে দিয়ে।

আমব্রা বাত্তিলানা: তিনি ইতালিয়ান অভিনেত্রী ও মডেল। ২০১৫ সালের মার্চে নিউ ইয়র্কে নিজের অফিসে তাকে আমন্ত্রণ জানান হারভে ওয়েইনস্টেইন। সেখানে অশালীনভাবে তাকে জড়িয়ে ধরেন। শরীরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে হাত দেন। এ বিষয়ে তিনি পুলিশে অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা অভিযোগ নেয় নি। এর জন্য পরে অর্থ দিয়ে পুশিয়ে দেয়া হয়েছে আমব্রা’কে।

জেসিকা বার্থ: ২০১১ সালে পেনিনসুলা হোটেলে নগ্ন অবস্থায় হারভে ওয়েইনস্টেইনের শরীর ম্যাসাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে।

লরা ম্যাডেন: তিনি একজন কর্মী। বলেছেন, ১৯৯১ সালে লন্ডন ও ডাবলিনে থাকা অবস্থায় হারভে ওয়েইনস্টেইনের শরীর ম্যাসাজ করাতেন তাকে দিয়ে।

এমিলি নেস্টর: ওয়েইনস্টেইন কোম্পানির মাত্র একদিনের অস্থায়ী একজন কর্মী ছিলেন তিনি। সেটা ২০১৪ সালের ঘটনা। সেদিন তার কাছে এগিয়ে গিয়েছিলেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। তাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে ভালো ক্যারিয়ার গড়ে দিতে।

জেলদা পারকিনস: ১৯৯৮ সালে লন্ডনে ওয়েইনস্টেইনের কোম্পানিতে একজন সহকারী ছিলেন। তখন তার বয়স ২৫ বছর। একপর্যায়ে সেখানে তিনি ও অন্যদের যৌন হয়রানি করেন তিনি। এর ফলে তারা এর বিরোধিতা করেন। পরে তা আদালতে মীমাংসা হয়।

এলিজাবেথ কার্লসেন: ‘ক্যারল অ্যান্ড দ্য ক্রাইং গেম’ ছবির অস্কার নমিনেশন পাওয়া প্রযোজক তিনি। অন্যদের সঙ্গে তিনিও বলেছেন, প্রায় ৩০ বছর আগের কাহিনী। তিনি বলেছেন, চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান মিরাম্যাক্সে ওয়েইনস্টেইনের সঙ্গে কাজ করতেন একজন যুবতী নির্বাহী। একদিন রাতে তার বেডরুমে দেখা যায় হারভে ওয়েইনস্টেইনকে নগ্ন অবস্থায়।

লিজা ক্যাম্পবেল: তিনি ফ্রিল্যান্স স্ক্রিপ্ট রিডার। বলেছেন, লন্ডনে হোটেল রুমে তাকে তলব করেছিলেন হারভে। সেখানে তাকে হারভের সঙ্গে বাথরুমে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন হারভে।

লরেন সিভান: তিনি ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপিকা। তাকে ২০০৭ সালে একটি রেস্তরাঁয় ফাঁদে ফেলেছিলেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। তার সামনে অসামাজিক কাজ করেছিলেন। একপর্যায়ে তাকে চুমু দেয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যাখ্যান করলে তাকে এক কোণে নিয়ে যান। সেখানেই তাকে ওই দৃশ্য দেখতে বাধ্য করেন।
জেসিকা হাইনেস: তিনি বৃটিশ অভিনেত্রী। তিনি বলেছেন, যখন তার বয়স ১৯ বছর তখন তাকে বিকিনি পরে ওয়েইনস্টেইন অডিশনে ডেকেছিলেন। তাতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ওই কাজটি হাতছাড়া হয়ে যায় জেসিকার।

পিছনের কথা:
হলিউড মোগল বলে পরিচিত চলচ্চিত্র প্রযোজক হারভে ওয়েইনস্টেইনের (৬৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন তিন অভিনেত্রী। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন এ সময়ের জনপ্রিয়, অভিনেত্রী অ্যানজেলিনা জোলি, গাইনেথ পালট্রো সহ কমপক্ষে আরো আটজন নারী। এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, এতগুলো শীর্ষ ও প্রথম শ্রেণির অভিনেত্রীর অভিযোগের ফলে তোলপাড় চলছে হলিউডে। আলোচনা চলছে গত ২০ বছরেরও বেশি সময় তার এই যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ‘দ্য ইংলিশ প্যাসেন’ ‘পালপ ফিকশন’-এর মতো নামকরা আরো অনেক ছবির প্রযোজক হারভে ওয়েইনস্টেইন। যে তিনজন অভিনেত্রী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন তাদের মধ্যে দু’জন পরিচয় প্রকাশ করেছেন। একজন নাম প্রকাশ করতে চান নি।

তারা বলেছেন, তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। একজনের সঙ্গে জোরপূর্বক এমন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, চলচ্চিত্র প্রযোজক সংস্থা মিরামার ফিল্মসের সহ প্রতিষ্ঠাতা হারভে ওয়েইনস্টেইন। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও আটজন অভিনেত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কার পত্রিকা বলেছে, এটাই সম্ভবত এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ। ১০ মাস এ নিয়ে অনুসন্ধান করেছে ওই পত্রিকাটি। এ সময়ে তারা ওই তিনজন ধর্ষিত নারীর সঙ্গে কথা বলেছে।

তবে লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট তাদের নাম প্রকাশ করে নি। নিউ ইয়র্কার বলেছে, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গুজব চলছিল যে, যৌন হয়রানি ও অবমাননা চালিয়ে যাচ্ছিলেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। হলিউডে এটা হলো ওপেন সিক্রেট। এসব কাহিনী যাতে প্রকাশ না হয় সে জন্য গোপন চুক্তি করেছেন হারভে ওয়েইনস্টেইন। অর্থ ব্যবহার করেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এসব করে ধর্ষিতা বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারীরা মুখ বন্ধ করে ছিলেন। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে গত সপ্তাহে তিনি বলেছেন, অতীতে আমি সহকর্মীদের সঙ্গে হয়তো খারাপ আচরণ করেছি। তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই। আমি ভালো করার চেষ্টা করছি। তাই আমাকে অনেকটা পথ যেতে হবে। তিনি দাবি করেন বৃটিশ বংশোদ্ভূত তার স্ত্রী জর্জিনা চ্যাপম্যান তাকে এক্ষেত্রে শতভাগ সমর্থন করছেন। কিন্তু তার স্ত্রী তা অস্বীকার করেছেন। তিনি তাকে ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।