হানিপ্রীতের জন্য তৈরি ৩০০ প্রশ্ন

প্রকাশকাল- ০৭:৪২,অক্টোবর ১০, ২০১৭,আন্তর্জাতিক বিভাগে

1-20171003083623-16বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরুমিত রাম রহিম গ্রেফতার হওয়ার পর ৩৮ দিন আড়ালে থাকলেও গত মঙ্গলবার চন্ডিগড়ের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয় হানিপ্রীত ইনসানকে। এরই মধ্যে দু’দফা জিজ্ঞাসাবাদে করা হয়েছে তাকে। কিন্তু পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি।

জেরা করতে গিয়ে পুলিশ দেখে, হানিপ্রীত বেশ শক্ত নারী। ক্রমাগত মিথ্যা তথ্য দিয়ে একের পর এক পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছেন তিনি। অসুস্থতার ভান ধরে হাসপাতালেও গেছেন। কখনও আবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

প্রাথমিক জেরার পর এটা বুঝেছে পুলিশ যে, হানিপ্রীতি ভাঙবে কিন্তু মচকাবে না। এরপর থেকে শুরু হয় পুলিশের নতুন কৌশল। এবার হানিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে চলবে জিজ্ঞাসাবাদ। এজন্য তৈরি করা হয়েছে ৩০০ প্রশ্নের একটি তালিকাও। হানিপ্রীতের জন্য তৈরি তিন’শ’ প্রশ্নের তালিকা থেকে চলবে জিজ্ঞাসাবাদ। যতোদিন পর্যন্ত সদুত্তর না মেলে, ততোদিন অজ্ঞাত স্থানে রাখা হবে তাকে। এখন হানিপ্রীতকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গত ৩৮ দিনের চোর-পুলিশ খেলার পুনরাবৃত্তির অবস্থা তৈরি করছে পুলিশ।

শারীরিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, পুরো সুস্থ হানি। এরপর আবার জেরা শুরু হলে বহু প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। সাধ্বিদের সঙ্গে ডেরা প্রধান রাম রহিমের গোপন যৌনতা থেকে শুরু করে তার সাজা ঘোষণার পর সিরসার সহিংসতার ঘটনা নিয়ে হানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু বেশির ভাগ প্রশ্ন হয় এড়িয়ে গেছেন, না হয় মিথ্যা উত্তর দিয়েছেন। রাম রহিম সম্পর্কেও মুখ খুলতে নারাজ তার এই কথিত পালিত কন্যা।

এরপর থেকে ভিন্ন কৌশল হাতে নেয় পুলিশ। তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে জেরার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হানিকে গোপন স্থানে নিতে বেশ কৌশলি হতে হয় পুলিশকে। নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে হানিপ্রীত সাজিয়ে দু’টি আলাদা কনভয় আগে বের করে দেওযা হয়। ফলে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি সেদিকে চলে যায়। এরপর আসল হানিপ্রীতকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশে বেরিয়ে যায় পুলিশ।